আমজাদ হোসেন কথা রাখেনি: ববিতা

ঢাকা: আমজাদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার সর্বশেষ সিনেমা ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’। তিনি সব সময় বলতেন, আমাকে নিয়ে আরও একটা সিনেমা করবেন। কিন্তু সেই কথা আমজাদ হোসেন রাখেনি, রাখতে পারেনি । মুত্যু তাকে ডেকে নিয়ে গেল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমজাদ হোসেনকে নিয়ে কথাগুরো বলেছেন আন্তর্জাতিক ক্যাতিসম্পন্ন নায়িকা ববিতা।

১৮ নভেম্বর আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোক করলে ২৭ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ খ্যাত পরিচালককে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরন করেন।

ববিতা বলেন, ‘আমজাদ ভাই অন্য অনেক পরিচালকের মতো ছিলেন না। তাঁর ছবির শুটিং হলেই আমরা কেমন সিরিয়াস থাকতাম। এখন তো শুটিংয়ে সমস্যা কম, শিল্পীরা শুটিংয়ে গিয়ে আরামেই থাকে। সে সময় আউটডোর শুটিংয়ে আমরা কোনোরকমে থাকতাম। মানিকগঞ্জে একবার শুটিংয়ে গিয়ে দেখি, আমাদের রুম ঠিক নেই, রুমের ভেতরে লাইট নেই। আমাদের রাতের খাবারেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু এটা কোনো ব্যাপার ছিল না। আমরা বলতাম, এই দোকান থেকে বাল্ব নিয়ে এস। পাশের ছাপরা হোটেল থেকে ভর্তা–টর্তা, মাছ কিনে নিয়ে এসো। আমরা নিজেরা কিনে এনে খেতাম। যেহেতু কাজটা আমজাদ হোসেনের।

একটা কথা মনে পড়ছে। আমরা রাত দুইটা–তিনটা পর্যন্ত বসে আছি। কনকনে শীত। অপেক্ষায় আছি কখন শুটিং আরম্ভ হবে। যেই ডাক আসত, আমরা খুশিতে ছুটে যেতাম। আমজাদ ভাই আমাদের শট নেবেন, মনভরে অভিনয় করতে পারব। এই জিনিস আর কোনো পরিচালকের মধ্যে আমি পাইনি। মাঝেমধ্যে তাঁর ওপর বিরক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটত। পরে অবশ্য জেনেছি, এটা তাঁর দোষ ছিল না। আমরা সবাই সকালবেলা যার যার পোশাক পরে তৈরি হয়ে আছি, অথচ আমজাদ ভাই তৈরি হননি। তিনি দেরি করে এসেছেন। পরে জানতে পারলাম, গ্যাস্ট্রিকের কারণে সারা রাত তাঁর পেটে ব্যথা করেছে। আরেকটা কথা বলি, এমনও হয়েছে, সব প্রস্তুত কিন্তু সিকোয়েন্স লেখা নেই। তিনি দ্রুত লিখে ফেললেন এবং কাজটা এত ভালো হলো যে আমাদের চোখে পানি এসে গেল! সবাই আমরা পাল্লা দিয়ে অভিনয় করতাম।

আমজাদ ভাই নেই, এ কথা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। মনে পড়ে যাচ্ছে অনেক স্মৃতি। শুধু এখন একটা কথাই বলব, যেখানে থাকুন, ভালো থাকুন আমজাদ ভাই।আমি শুনে খুবই মর্মাহত। আমজাদ ভাইয়ের বেশির ভাগ ছবি করেছিলাম আমি, যেগুলো ছিল মাইলস্টোন। আমজাদ ভাইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, তাঁর ছবি যেমন পুরস্কৃত হতো, তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও আয় করত। মৃণাল সেন পর্যন্ত তাঁর ছবির সাংঘাতিক প্রশংসা করেছেন। চলচ্চিত্রে আমজাদ হোসেন একজনই ছিলেন।

আমজাদ হোসেনর গোলাপী এখন ট্রেনে সিনেমায় ববিতা
আমজাদ ভাই একজন অসাধারণ লোক ছিলেন। তাঁকে নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি, বলে শেষ করা যাবে না। দু–একটি কথা শুধু বলি। আমজাদ ভাইয়ের ছবির শুটিং মানে গ্রামে শুটিং। নয়নমনি, গোলাপী এখন ট্রেনে ছবিগুলো ছিল গ্রামকেন্দ্রিক। কনকনে শীতে মানিকগঞ্জে নদীর পাড়ে শুটিং করেছি, সে কথা মনে আছে। আমজাদ ভাইয়ের সেই ছবিগুলোয় আমি ছাড়াও কাজ করেছিলেন রওশন জামিল, আনোয়ারা ও ফারুক। আমাদের ছবিগুলো সুপারহিট হয়েছিল।

বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে কি হয় ?

পুরুষেরা যে কারণে কম বয়সী নারীদের বিয়ে করতে চায় !

স্ত্রী মোটা হলে স্বামীরা যে রোগে আক্রান্ত হয় বেশী!