২ বোনের সেই সেলুনে শেভ করলেন শচিন!

সম্প্রতি শেভিং ব্লেড প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘জিলেট’র একটি বিজ্ঞাপন অনলাইনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যে বিজ্ঞাপনটি তৈরি করা হয় উত্তর প্রদেশের বানওয়ারি তলা ভিলেজের দুই বোনের সত্যিকারের জীবন কাহিনি অবলম্বনে।

২০১৪ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তাদের বাবা। সংসার চলবে কীভাবে? সেলুনে তো মেয়ে মানুষের কাজ করার উপায় নেই। ভারতের মতো দেশে সেটা কখনই ভালোভাবে নেবে না সমাজ। দুই বোন নেহা আর জ্যোতি সমাজের সেই বাধা ভেঙে নেমে পড়েন জীবন সংগ্রামে। সেলুনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তারা। সমাজের মানুষদের কটু কথা এড়াতে ছেলেদের মতো বেশ ধরেন, নামও পাল্টে করে নেন ছেলেদের মতো।

জীবন সংগ্রামের সাহসী সেই দুই বোনের ‘বার্বারশপ গার্লস’ সেলুনে এবার হাজির হয়েছিলেন ক্রিকেটের সর্বকালের সেরাদের একজন-মাস্টার ব্লাস্টার শচিন টেন্ডুলকার। শুক্রবার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যেখানে দেখা যায় সেলুনে বসে শেভ নিচ্ছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক।

নেহা আর জ্যোতির সঙ্গে ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে মজার একটি কথাও সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন শচিন। এমন ঘটনা নাকি তার জীবনে আগে কখনই ঘটেনি।

শচিন তার পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন না, আমি কখনও এমন কারও কাছ থেকে শেভ করিনি। আজ সেই রেকর্ড ভেঙে গেল। বার্বারশপ গালর্সদের সঙ্গে দেখা হওয়ার মতো বড় সম্মান পেলাম।’

সেলুনে নিজের কাজ শেষে নেহা আর জ্যোতিকে লেখাপড়া আর পেশাগত খরচের জন্য জিলেট বৃত্তির ব্যবস্থা করেন শচিন। অনলাইনে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ৭ লাখের বেশি লাইক পড়েছে।

ধোনির নামে জালিয়াতি, ক্রিকেটার গ্রেফতার !

ভারতের বর্তমান ক্রিকেট দলে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলোয়াড় কে জিজ্ঞেস করা হলে খোদ ভারতীয়রাই হয়তো দ্বিধায় পড়ে যাবেন বিরাট কোহলি এবং মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ঘিরে। দেশটিতে দুই ক্রিকেটারের আবেদন ও জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তাদের এক ইশারায় যেকোনো কিছু করতে রাজি কোটি ক্রিকেটপাগল সমর্থক।

সেটিরই ফায়দা নিলেন রঞ্জি ট্রফি খেলা ক্রিকেটার বুদামারু নাগারাজু। মহেন্দ্র সিং ধোনিসহ ভারতের প্রখ্যাত মানুষদের নাম ব্যবহার করে ও তাদের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি করে আসছিলেন নাগারাজু।

তবে বেশিদিন এ কাজ করতে পারেননি তিনি। কারণ শুক্রবার জালিয়াতির মামলায় তাকে গ্রেফতার করেছে বিজয়াওয়াদা সিটি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর মামলা করতে যাচ্ছে পুলিশ। শাস্তির মাত্রাটাও কম হওয়ার সুযোগ নেই এ ঘরোয়া ক্রিকেটারের।

২৫ বছর বয়সী নাগারাজু ২০১৪ সালের রঞ্জিতে খেলেছিলেন আন্ধ্রা রঞ্জি দলের হয়ে। এছাড়া ২০১১ সালে সাউথ জোন এবং ২০১৩ সালে সেন্ট্রাল জোনের হয়ে খেলেছেন নাগারাজু। তবে তার রয়েছে টানা ৮২ ঘণ্টা নেটে ব্যাটিং করার গিনেস রেকর্ড। এ কীর্তি গড়ার পরেই মূলত বিলাসবহুল জীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন নাগারাজু।

তাকে গ্রেফতার করা পুলিশ অফিসার সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘মূলত ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার পর বিভিন্ন ফার্ম থেকে স্পন্সরশিপ পেতে শুরু করে নাগারাজু এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন। ২০১৮ সালে সহজে অর্থ পাওয়ার লোভে গোপাল নামক এক ব্যক্তির কাছে এমএস ধোনি ক্রিকেট একাডেমি খোলার নাম করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। সে সময় ভিশাখাপত্তমে গোপাল নামের সে ব্যক্তি থানায় মামলা দায়ের করেন।’

নাগারাজুর এ অপকৌশল থেকে মুক্তি পাননি ভারতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান এমএসকে প্রসাদও। সম্প্রতি প্রসাদের কিছু সঙ্গে পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তার কণ্ঠ নকল করতে শিখেন নাগারাজু।

পরে প্রসাদের কণ্ঠ ব্যবহার রামকৃষ্ণ হাউজিং প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৩ লাখ ৮৮ হাজার রুপি হাতিয়ে নেয় নাগারাজু। গ্রেফতারের সময় একটি পালসার বাইক এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ রুপি উদ্ধার করা হয় তার কাছ থেকে।