চট্টগ্রামে স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর ডাক্তারের ‘আত্মহত্যা’

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকা থেকে মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশ নামের এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের দাবি স্ত্রী’র সঙ্গে ঝগড়া করে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়িতে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত নায়েক মোহাম্মদ হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডা. আকাশকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আকাশ ইনজেকশন পুশ করে নাকি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।’

তিনি আরও বলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে আকাশ আত্মহত্যা করেছে।

আকাশের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায়, ভোর ৪টার দিকে স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছিল তার অ্যাকাউন্ট থেকে। বিয়ের আগে থেকেই আকাশের স্ত্রী অন্য পুরুষদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়। নিজের স্ত্রী’র এমন কর্মকাণ্ড থামাতে তার পরিবারকে উদ্যোগ নেয়ার জন্য আকাশ একাধিকবার অনুরোধ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয় ওই স্ট্যাটাসে। অন্য পুরুষের সঙ্গে নিজের স্ত্রী’র একাধিক ছবিসহ পোস্ট করা ওই স্ট্যাটাসের পরপরই আরেকটি স্ট্যাটাস দেয়া হয় আকাশের প্রোফাইল থেকে।

ফেসবুক শেষের স্ট্যাটাসে লেখা হয়, ‘ভালো থেকো আমার ভালোবাসা, তোমার প্রেমিকদের নিয়ে’

আকাশের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

ফেসবুক স্ট্যাটাস- ‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয় প্রচন্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়ায়, প্রেম করে বেড়ায় আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকত। ২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয় বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইল এ দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের ছবি শতশত ছবি। আমিতো বেচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবেনা। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএসএমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারী ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি ।আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম।তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল নালাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা।আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবেনা এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম।ভিতর বাহির যদি এক হত।সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম।

আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত।

ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলামনা।মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলে না।

বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করনা, মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা।

হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে , না করলে নাই।এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল।

ও আমাকে আর কি ভালবাসল ? কিসের বিয়ে করল?। আমি শেষ পর‍্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে।আমার শশুড় আর শাশুড়ী কে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ৯ টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচনা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে।আমাই এই বেইমানি মেনে নিতে পারিনাই।তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি শশুড় আর বউ নামের কলংক করতে দিলনাআমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার।আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক।অনেকেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমিঞ্জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার।যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবেনা।তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে আকাশ এমবিবিএস শেষ করে এফসিপিএস পড়ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *