দুই ভবনের ফাঁকে মিলল হালিমার নিথর দেহ

দুইটি পাশাপাশি উচ্চ ভবনের মধ্যবর্তী স্থান সরু গলির মতো। তারই শুরুতে একটি শিশু। মুখটা আবছা, ঘাড় বেঁকে থাকায় খালি চোখে মনে হবে, নিষ্পাপ শিশুটি গা এলিয়ে শুয়ে আছে, শীতে কারও উষ্ণতা পেতে।

কিন্তু এই একটি ছবিতেই যে একরাশ কান্না জড়িয়ে রয়েছে, তা শনিবার সকালেও কারও জানা ছিল না। জানতেন না তার প্রিয়জনেরাও। দুপুরে জানার পর ছোট্ট হালিমার এই ছবি এখন কাঁদাচ্ছে সবাইকে।

আড়াই বছরের হালিমা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়ার রাজমিস্ত্রি আমির হোসেনের মেয়ে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়িতেই খেলছিল। হঠাৎ তার আর খোঁজ নেই।

এরপর অনেক সন্ধান করার পর না পেয়ে মাইকিং করা হয়। মাইকিং চলার ফাঁকেই দুপুর পৌনে ১টার দিকে খবর পাওয়া যায় হালিমার সন্ধান পাওয়া গেছে।

হালিমার মরদেহ মিলেছে ভবনের ফাঁকে। মা-বাবা তো পড়িমড়ি করে ছুটে গিয়ে জেলা শহরের ভাদুঘর ভূঁইয়াপাড়া থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, নিজ বাড়িতে খেলার সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিখোঁজ হয় হালিমা। পরে এলাকায় সন্ধান চেয়ে মাইকিং করা হয়। মাইকিং চলাকালেই স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে, তাদের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে দুটি ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে পড়ে আছে হালিমার দেহ।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে কোনো রক্ত নেই। তার শরীরের কোথাও কাটাছেঁড়া নেই। আমরা ধারণা করছি, হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর এখানে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।’

এ সময় তিনি আরও জানান এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের জন্য তাদের নাম প্রকাশ করা যাবে না বলে তিনি জানান।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে শিশু হালিমার মৃত্যুর কারণ আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে বলে জানান পুলিশের এ পরিদর্শক।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানর ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *